ঢাকা ০১:৩৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ মে ২০২৪, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

কুয়াকাটায় বাতিল হচ্ছে হোটেল-রিসোর্টের অগ্রিম বুকিং

বিশেষ প্রতিনিধিঃ
  • আপডেট সময় : ০২:৪৪:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৪ ৯ বার পড়া হয়েছে

অতিরিক্ত তাপমাত্রায় পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় আগত পর্যটকরা হোটেল-রিসোর্টের অগ্রিম বুকিং বাতিল করছেন। কেউ কেউ দুই-তিনদিন থাকার জন্য এসে গরমে একদিন থেকে ফিরে যাচ্ছেন। এতে কাঙ্ক্ষিত পর্যটক পাচ্ছেন না পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

রোববার (২৫ এপ্রিল) কুয়াকাটার বেশ কয়েকটি হোটেল মালিকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঈদ পরবর্তী লম্বা একটি সময় কুয়াকাটায় পর্যটকদের আগমনে সরগরম থাকে। তবে প্রতি বছরের চেয়ে এ ঈদের পর অসংখ্য পর্যটকদের আগমন থাকলেও হঠাৎ ভাটা পড়ে। অতিরিক্ত দাবদাহের কারণে আগত পর্যটকরা দ্রুত চলে যাচ্ছেন।

কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল এমপ্লয়িজ এসোসিয়েশনের সভাপতি ইব্রাহিম ওয়াহিদ জানান, অগ্রিম বুকিং করা পর্যটকরা পরিবারের শিশু-বৃদ্ধদের চিন্তা করে সেটি বাতিল করছেন। প্রতিটি ঈদের পর আমরা প্রথম সপ্তাহ পুরোপুরি বুকিং পাই, দ্বিতীয় সপ্তাহে ৫০-৭০ শতাংশ বুকিং থাকে। এভাবে কমপক্ষে ১৫ দিন আমরা পর্যটকদের সরগরমে ব্যস্ত থাকি। তবে এ ঈদের পরে হঠাৎ পর্যটকদের অবস্থা ২০-৩০ শতাংশে চলে এসেছে।

বরিশাল থেকে বেড়াতে আসা পর্যটক মোঃ করিম মৃধা জানান, তিন সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে কুয়াকাটায় এসেছি। ২-৩ দিন থাকতে চেয়েছি কিন্তু একদিন থাকার পরে মনে হচ্ছে এখানে আর থাকা সম্ভব নয়।

হোটেল সমুদ্র বাড়ি রিসোর্টের পরিচালক নজরুল ইসলাম সজিব জানান, আমাদের হোটেলে ঈদের পরে বেশ ভালো অগ্রিম বুকিং পেয়ে থাকি। তবে প্রতি বছর ঈদ পরবর্তী এমন সময়ে হোটেলের প্রায় ৫০-৭০ শতাংশ কক্ষ বুকিং থাকে। কিন্তু এ বছর মাত্র ১০ শতাংশ বুকিং রয়েছে। দুদিন আগে বুকিং দেওয়া ৫টি রুম দুটি পরিবার আজকে বাতিল করেছে। তারা বলছে অতিরিক্ত গরমের কারণে শিশু ও পরিবারের লোকজন নিয়ে নিরাপদ মনে না করায় এ বুকিং বাতিল করা হয়েছে।

ট্যুর অপারেটর এসোসিয়েশন অব কুয়াকাটা (টোয়াক) সেক্রেটারি জেনারেল জহিরুল ইসলাম জানান, ঈদ পরবর্তী সময়কে আমরা পর্যটক মৌসুমের একটি বড় সময় ধরে থাকি। এ বছর মৌসুমে পর্যটক আসা শুরু করলেও অতিরিক্ত তাপমাত্রা সবকিছু এলোমেলো করে দিয়েছে। কুয়াকাটায় প্রায় ২০০ আবাসিক হোটেল-রিসোর্ট রয়েছে তার মধ্যে ৪০-৫০ শতাংশ হোটেলে কক্ষে এসি থাকে। সব পর্যটকরা তো আবার এসিতেও থাকে না। সব মিলিয়ে এ পর্যটক কমে যাওয়া ব্যবসায়ীদের জন্য একটি বড় ক্ষতির কারণ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

কুয়াকাটায় বাতিল হচ্ছে হোটেল-রিসোর্টের অগ্রিম বুকিং

আপডেট সময় : ০২:৪৪:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৪

অতিরিক্ত তাপমাত্রায় পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় আগত পর্যটকরা হোটেল-রিসোর্টের অগ্রিম বুকিং বাতিল করছেন। কেউ কেউ দুই-তিনদিন থাকার জন্য এসে গরমে একদিন থেকে ফিরে যাচ্ছেন। এতে কাঙ্ক্ষিত পর্যটক পাচ্ছেন না পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

রোববার (২৫ এপ্রিল) কুয়াকাটার বেশ কয়েকটি হোটেল মালিকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঈদ পরবর্তী লম্বা একটি সময় কুয়াকাটায় পর্যটকদের আগমনে সরগরম থাকে। তবে প্রতি বছরের চেয়ে এ ঈদের পর অসংখ্য পর্যটকদের আগমন থাকলেও হঠাৎ ভাটা পড়ে। অতিরিক্ত দাবদাহের কারণে আগত পর্যটকরা দ্রুত চলে যাচ্ছেন।

কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল এমপ্লয়িজ এসোসিয়েশনের সভাপতি ইব্রাহিম ওয়াহিদ জানান, অগ্রিম বুকিং করা পর্যটকরা পরিবারের শিশু-বৃদ্ধদের চিন্তা করে সেটি বাতিল করছেন। প্রতিটি ঈদের পর আমরা প্রথম সপ্তাহ পুরোপুরি বুকিং পাই, দ্বিতীয় সপ্তাহে ৫০-৭০ শতাংশ বুকিং থাকে। এভাবে কমপক্ষে ১৫ দিন আমরা পর্যটকদের সরগরমে ব্যস্ত থাকি। তবে এ ঈদের পরে হঠাৎ পর্যটকদের অবস্থা ২০-৩০ শতাংশে চলে এসেছে।

বরিশাল থেকে বেড়াতে আসা পর্যটক মোঃ করিম মৃধা জানান, তিন সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে কুয়াকাটায় এসেছি। ২-৩ দিন থাকতে চেয়েছি কিন্তু একদিন থাকার পরে মনে হচ্ছে এখানে আর থাকা সম্ভব নয়।

হোটেল সমুদ্র বাড়ি রিসোর্টের পরিচালক নজরুল ইসলাম সজিব জানান, আমাদের হোটেলে ঈদের পরে বেশ ভালো অগ্রিম বুকিং পেয়ে থাকি। তবে প্রতি বছর ঈদ পরবর্তী এমন সময়ে হোটেলের প্রায় ৫০-৭০ শতাংশ কক্ষ বুকিং থাকে। কিন্তু এ বছর মাত্র ১০ শতাংশ বুকিং রয়েছে। দুদিন আগে বুকিং দেওয়া ৫টি রুম দুটি পরিবার আজকে বাতিল করেছে। তারা বলছে অতিরিক্ত গরমের কারণে শিশু ও পরিবারের লোকজন নিয়ে নিরাপদ মনে না করায় এ বুকিং বাতিল করা হয়েছে।

ট্যুর অপারেটর এসোসিয়েশন অব কুয়াকাটা (টোয়াক) সেক্রেটারি জেনারেল জহিরুল ইসলাম জানান, ঈদ পরবর্তী সময়কে আমরা পর্যটক মৌসুমের একটি বড় সময় ধরে থাকি। এ বছর মৌসুমে পর্যটক আসা শুরু করলেও অতিরিক্ত তাপমাত্রা সবকিছু এলোমেলো করে দিয়েছে। কুয়াকাটায় প্রায় ২০০ আবাসিক হোটেল-রিসোর্ট রয়েছে তার মধ্যে ৪০-৫০ শতাংশ হোটেলে কক্ষে এসি থাকে। সব পর্যটকরা তো আবার এসিতেও থাকে না। সব মিলিয়ে এ পর্যটক কমে যাওয়া ব্যবসায়ীদের জন্য একটি বড় ক্ষতির কারণ।