ঢাকা ০১:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৪, ৩ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ :

হরিপুর ৫০ শয্যার হাসপাতালে স্বাস্থ্য সেবার মান বেহাল দশা

নিজস্ব প্রতিবেদন
  • আপডেট সময় : ০৬:১১:২৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ ৪৬ বার পড়া হয়েছে

জহুরুল ইসলাম (জীবন) হরিপুর, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি : ঠাকুরগাঁয়ের হরিপুর উপজেলার ৫০ শয্যার হাসপাতাল টি জনবল সংকটের কারণে স্বাস্থ্য সেবার মান বেহাল দশা হয়ে পরেছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, হরিপুর উপজেলার ৫০ শয্যার হাসপাতালে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ১৯ জন ডাক্তার থাকার নিয়ম থাকলেও টিএইচএ সহ কাগজে কলমে রয়েছে ১১ জন। এর মধ্যে ৩ জন ৪ বছর ধরে ডেপুটেশনে থাকায় বর্তমামে কর্মস্থলে ডাক্তার রয়েয়ে ৮ জন। সার্জারী, গাইনী ও অ্যানেসথেসিয়া কনসালটেন্ট না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে প্রসুতি ও সিজারের কাজকর্ম বন্দ রয়েছে। এতে ওটিতে থাকা মূল্যবান জিনিস পত্র গুলি নষ্ঠ হওয়ার পথে। ৩০ জন সিনিয়র স্টাফ নার্স এর মধ্যে ১১ জন রয়েছে ডেপুটেশনে। মিড়ওয়াইফ পদে ৫ জনের বিপরিতে রয়েছে ৩ জন এর মধে ২ জন রয়েছে ডেপুটেশনে আর কর্মস্থলে আছে মাত্র এক জন। ওয়ার্ড বয়,কম্পিউটার অপারেটরর, পরিসংখ্যানবিদ, জুনিয়র মেকানিক, সিকিউরিটি গার্ড সহ আরো ৭ জন কর্মচারী ডেপুটেশনে রয়েছে। ৫ জন সুইপারের মধ্যে আছে ১ জন। এসবের কারণে হরিপুর হাসপাতালটির স্বাস্থ্য সেবার মান বেহাল দশা হয়ে পড়েছে দেখার কেউ নেই। গরীব দুঃখী পরিবারের গর্ভপতি মা ও শিশু সেবা ও বিনামূল্যে প্রসূতির কার্যক্রম (ডিএসএফ) চালু থাকলেও হাসপাতালে জুনিয়র কনসালটেন্ট, গাইনী ও এনেস্থেসিয়া বিভাগের কোন ডাক্তার না থাকায় প্রতিদিনই এসব রোগীকে সিজারের জন্য বাইরে ঠাকুরগাঁও,দিনাজপুর,রংপুর হাসপাতালে রেফার্ড করতে হয়। এতে প্রসূতি রোগী ও তার পরিবারকে পোহাতে হয় অর্থনৈতিক ভোগান্তি। এক্সে মেশিন নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। এছাড়াও এখানে আরট্রাসনোগ্রাম মেশিন নেই। হরিপুর উপজেলায় প্রায় ২ লক্ষ মানুষের বসবাস। এর মধ্যে ৭৫ ভাগ মানুষ গরীব ও মধ্যবিত্ত। এই মানুষগুলোর স্বাস্থ্যসেবার একমাত্র স্থান হচ্ছে এ ৫০ শয্যার হাসপাতালটি। দূর দূরান্ত থেকে মানুষ হাসপাতালে এসে চিকিৎসা সেবা ও ডাক্তার না পেয়ে হতাশ হয়ে বাড়ী ফিরে। গ্রাম-গঞ্জের অনেকেই আর্থিক অভাবের কারণে বাইরে চিকিৎসা না নিয়ে গ্রামের হাতুরি ডাক্তার দ্বারা চিকিৎসা নিচ্ছে। আবার কেউ সু-চিকিৎসার অভাবে মারাও যাচ্ছে। বর্তমান ডিজিটাল ও উন্নত চিকিৎসার বিজ্ঞান যুগে হরিপুর হাসপাতালটির বেহাল দশার দিকে সু-দৃষ্টি দিতে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট এলাকাবাসী দীর্ঘদিন ধরে জোর আবেদন করে আসছেন। হাসপাতালের বেহাল দশার বিষয়ে টিএইচএ ডাঃ শামিমুজ্জামান কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, হাসপাতালের সার্বিক বিষয় উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ সহ ঠাকুরগাঁও- ২ আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম জানানো হয়েছে। হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ঠাকুরগাঁ-২ আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম সুজন বলেন, গত বৃহস্পিতিবারের হাসপাতালের মিটিংয়ে আমি সব সমস্যার কথা শুনেছি । মানুষের স্বাস্থ্য সেবার মান ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনিয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। হরিপুর আওয়ামী লীগ সম্পাদক এস এম আলমগীর হাসপাতালটির দূর্দশামুক্ত ও জন দূভোগের হাতথেকে রক্ষা করতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হস্তক্ষেপ সহ সু দৃষ্ঠি কামনা করছি

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

হরিপুর ৫০ শয্যার হাসপাতালে স্বাস্থ্য সেবার মান বেহাল দশা

আপডেট সময় : ০৬:১১:২৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

জহুরুল ইসলাম (জীবন) হরিপুর, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি : ঠাকুরগাঁয়ের হরিপুর উপজেলার ৫০ শয্যার হাসপাতাল টি জনবল সংকটের কারণে স্বাস্থ্য সেবার মান বেহাল দশা হয়ে পরেছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, হরিপুর উপজেলার ৫০ শয্যার হাসপাতালে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ১৯ জন ডাক্তার থাকার নিয়ম থাকলেও টিএইচএ সহ কাগজে কলমে রয়েছে ১১ জন। এর মধ্যে ৩ জন ৪ বছর ধরে ডেপুটেশনে থাকায় বর্তমামে কর্মস্থলে ডাক্তার রয়েয়ে ৮ জন। সার্জারী, গাইনী ও অ্যানেসথেসিয়া কনসালটেন্ট না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে প্রসুতি ও সিজারের কাজকর্ম বন্দ রয়েছে। এতে ওটিতে থাকা মূল্যবান জিনিস পত্র গুলি নষ্ঠ হওয়ার পথে। ৩০ জন সিনিয়র স্টাফ নার্স এর মধ্যে ১১ জন রয়েছে ডেপুটেশনে। মিড়ওয়াইফ পদে ৫ জনের বিপরিতে রয়েছে ৩ জন এর মধে ২ জন রয়েছে ডেপুটেশনে আর কর্মস্থলে আছে মাত্র এক জন। ওয়ার্ড বয়,কম্পিউটার অপারেটরর, পরিসংখ্যানবিদ, জুনিয়র মেকানিক, সিকিউরিটি গার্ড সহ আরো ৭ জন কর্মচারী ডেপুটেশনে রয়েছে। ৫ জন সুইপারের মধ্যে আছে ১ জন। এসবের কারণে হরিপুর হাসপাতালটির স্বাস্থ্য সেবার মান বেহাল দশা হয়ে পড়েছে দেখার কেউ নেই। গরীব দুঃখী পরিবারের গর্ভপতি মা ও শিশু সেবা ও বিনামূল্যে প্রসূতির কার্যক্রম (ডিএসএফ) চালু থাকলেও হাসপাতালে জুনিয়র কনসালটেন্ট, গাইনী ও এনেস্থেসিয়া বিভাগের কোন ডাক্তার না থাকায় প্রতিদিনই এসব রোগীকে সিজারের জন্য বাইরে ঠাকুরগাঁও,দিনাজপুর,রংপুর হাসপাতালে রেফার্ড করতে হয়। এতে প্রসূতি রোগী ও তার পরিবারকে পোহাতে হয় অর্থনৈতিক ভোগান্তি। এক্সে মেশিন নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। এছাড়াও এখানে আরট্রাসনোগ্রাম মেশিন নেই। হরিপুর উপজেলায় প্রায় ২ লক্ষ মানুষের বসবাস। এর মধ্যে ৭৫ ভাগ মানুষ গরীব ও মধ্যবিত্ত। এই মানুষগুলোর স্বাস্থ্যসেবার একমাত্র স্থান হচ্ছে এ ৫০ শয্যার হাসপাতালটি। দূর দূরান্ত থেকে মানুষ হাসপাতালে এসে চিকিৎসা সেবা ও ডাক্তার না পেয়ে হতাশ হয়ে বাড়ী ফিরে। গ্রাম-গঞ্জের অনেকেই আর্থিক অভাবের কারণে বাইরে চিকিৎসা না নিয়ে গ্রামের হাতুরি ডাক্তার দ্বারা চিকিৎসা নিচ্ছে। আবার কেউ সু-চিকিৎসার অভাবে মারাও যাচ্ছে। বর্তমান ডিজিটাল ও উন্নত চিকিৎসার বিজ্ঞান যুগে হরিপুর হাসপাতালটির বেহাল দশার দিকে সু-দৃষ্টি দিতে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট এলাকাবাসী দীর্ঘদিন ধরে জোর আবেদন করে আসছেন। হাসপাতালের বেহাল দশার বিষয়ে টিএইচএ ডাঃ শামিমুজ্জামান কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, হাসপাতালের সার্বিক বিষয় উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ সহ ঠাকুরগাঁও- ২ আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম জানানো হয়েছে। হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ঠাকুরগাঁ-২ আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম সুজন বলেন, গত বৃহস্পিতিবারের হাসপাতালের মিটিংয়ে আমি সব সমস্যার কথা শুনেছি । মানুষের স্বাস্থ্য সেবার মান ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনিয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। হরিপুর আওয়ামী লীগ সম্পাদক এস এম আলমগীর হাসপাতালটির দূর্দশামুক্ত ও জন দূভোগের হাতথেকে রক্ষা করতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হস্তক্ষেপ সহ সু দৃষ্ঠি কামনা করছি